আফগানিস্তানকে পাত্তাই দিলনা বাংলাদেশ; বিশ্বকাপে দুর্দান্ত শরু করল টাইগাররা

লেখক: Amadersomaj
প্রকাশ: ৫ মাস আগে


খেলাধুলা ডেস্ক : ২০২৩ ক্রিকেট বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে আফগানিস্তানকে ৬ উইকেটে হারিয়েছে বাংলাদেশ। ব্যাটিং-বোলিং দুই বিভাগেই আফগানদের স্রেফ গুঁড়িয়ে দিয়েছে টাইগাররা।

ভারতের ধর্মশালায় টস জিতে আফগানিস্তানকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানান বাংলাদেশ অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। ব্যাটিংয়ে নেমে বাংলাদেশের বোলারদের তুলোধোনা করেছেন রহমান উল্লাহ গুরবাজ ও ইব্রাহীম জাদরান। ইনিংসের নবম ওভারে ইব্রাহীমকে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে প্রথম উইকেট এনে দেন অধিনায়ক সাকিব।

এই বাঁহাতি স্পিনারের করা অফ স্টাম্পের বাইরের ফ্লাইটেড ডেলিভারিতে সুইপ করতে গিয়েছিলেন জাদরান। তবে ব্যাটে-বলে না হলে বল চলে যায় স্কয়ার লেগে তানজিদ হাসান তামিমের হাতে। ফলে এবারের বিশ্বকাপে প্রথম উইকেটের স্বাদ পায় টাইগাররা।

আফগান ব্যাটার রহমত শাহকেও বেশিদূর এগোতে দেননি সাকিব। তার করা টসড আপ ডেলিভারিতে এক্রস দ্য লাইন খেলতে গিয়ে টপ এজ হয়ে আউট হয়েছেন রহমত। লিটন দাস জায়গায় দাঁড়িয়ে সহজ ক্যাচ নিয়েছেন। দুই উইকেট হারানোর পর আফগানিস্তানের হাল ধরেছিলেন হাসমতউল্লাহ শহীদি ও রহমানউল্লাহ গুরবাজ।

শহীদিকে বেশিক্ষণ টিকতে দেননি মিরাজ। এই অফ স্পিনারের করা টসড আপ ডেলিভারিতে বড় শট খেলতে গিয়ে তাওহীদ হৃদয়ের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হয়েছেন শহীদি। পরের ওভারে ৪৭ রান করা গুরবাজকে আউট করে বাংলাদেশ শিবিরে স্বস্তি এনে দিয়েছেন মুস্তাফিজুর রহমান।

সাকিব নিজের দ্বিতীয় স্পেলে বল করতে এসেই ৫ রান করা নাজিবউল্লাহ জাদরানকে বোল্ড করে আউট করেছেন। সাকিবের লেংথ বলে ডিফেন্স করতে চেয়েছিলেন কিন্তু বলের লাইন মিস করে বোল্ড হয়েছেন এই আফগান ব্যাটার। পরের ওভারে মোহাম্মদ নবিকে বোল্ড করেছেন তাসকিন আহমেদ।

তাসকিনের স্টাম্প বরাবর বল অফ সাইডে খেলতে চেয়েছিলেন নবি। তবে ঠিকমতো ব্যাটে-বলে না হলে ব্যাটের কানায় লেগে বলে ভেঙ্গে দেয় লেগ স্টাম্প। ১২ বলে ৬ রান করে ফেরেন এই অলরাউন্ডার। এরপর আফগানস্তানের লোয়ার অর্ডার গুঁড়িয়ে দিতে বড় অবদান রেখেছেন মিরাজ ও শরিফুল ইসলাম।

প্রথমে ৯ রান করা রশিদ খানকে বোল্ড করেন এই স্পিনার। এরপর মুজিব উর রহমানকেও বোল্ড করেছেন তিনি। মাঝে আজমতউল্লাহ ওমরজাইকে ২২ রানে ফিরিয়েছিলেন শরিফুল। শেষ ব্যাটার নাভিন উল হককে ০ রানে আউট করে আফগানিস্তানকে গুটিয়ে দিয়েছেন শরিফুল। মাত্র ৩৭.২ ওভার ব্যাট করে আফগানিস্তান থেমে যায় ১৫৬ রানে।

সাকিব আল হাসান ও মেহেদী হাসান মিরাজ তিনটি করে উইকেন নেন। পেসারদের চার উইকেটের মধ্যে শরিফুল দুই আর তাসকিন ও মোস্তাফিজ নেন এক উইকেট করে।

মাত্র ১৫৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বরাবরের মতো হতাশ করেন ওপেনাররা। ইনিসের সপ্তম ওভারের মধ্যেই দুই ওপেনারকে হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশ। শুরুতে রানআউটে আটকা পড়েন তানজিদ তামিম। দ্রুত রান নিতে গিয়ে নাজিবউল্লাহ জাদরানের সরাসরি থ্রোতে আউট হন তিনি। ১৯ রানে ভাঙে উদ্বোধনী জুটি, ৫ রান করেন তামিম।

এরপর লিটন দাস মূলত ফজল হক ফারুকির বলে বেরিয়ে এসে খেলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু টাইমিং মেলাতে পারেননি। ব্যাটের কানায় লেগে বল আঘাত হাতে স্টাম্পে। ১৮ বলে ১৩ রান করেন ফেরেন তিনি, ২৭ ওভারে বাংলাদেশ হারায় দ্বিতীয় উইকেট।

শুরুর ধাক্কা সামাল দিয়ে জুটি বাধেন মিরাজ ও নাজমুল হোসেন শান্ত। যদিও বেশ কবার ক্যাচ তুলে দেন। তবে,আফগান ফিল্ডাররা তা মিস করে জীবন দেন দুজনকে। এই জুটিই পড়ে হয়ে উঠে আফগানদের মাথাব্যথার কারণ। ১২৯ বলে ৯৭ রানের এই জুটিতেই জয়ের পথ লিখে ফেলে বাংলাদেশ।

বল হাতে দারুণ করা মিরাজ ব্যাট হাতেও ছিলেন দুর্দান্ত। ওয়ানডাউনে নেমে বাংলাদেশের কাজটা সহজ করে দেন এই অলরাউন্ডার। উইকেটে থিতু হয়ে ৫৮ বলে তুলে নেন ক্যারিয়ারের তৃতীয় হাফসেঞ্চুরি। শেষ পর্যন্ত তিনি খেলেন ৭৩ বলে ৫৭ রানের ইনিংস। তাঁর সঙ্গে ক্যারিয়ারের পঞ্চম হাফসেঞ্চুরি করা শান্ত খেলেন ৮৩ বলে ৫৯ রানের ইনিংস। শেষ দিকে সাকিব করেন ১৪ রান। দুই বিভাগের দাপটে ৯২ বল হাতে রেখেই বাংলাদেশ তুলে নিয়ে স্বস্তির জয়।

এর আগে ব্যাট করতে নামা আফগানিস্তানের হয়ে সর্বোচ্চ ৪৭ রান করেন গুরবাজ। ওপেনিংয়ে নামা এই ব্যাটারের ইনিংস সাজানো ছিল ৬২ বলে চার বাউন্ডারি ও এক ছক্কা দিয়ে। বাকিদের কেউ ইনিংস বড় করতে পারেননি। আরেক ওপেনার জাদরান করেন ২৫ বলে ২২ রান। সমান ২২ রান আসে ওমরজাইয়ের ব্যাট থেকে। বাকিরা পাত্তা পানি বাংলাদেশের বোলারদের সামনে।

বাংলাদেশের পক্ষে তিনটি করে উইকেট শিকার করেন সাকিব ও মিরাজ। সাকিব ৩০ রানে তিনটি এবং মিরাজ ২৫ রানে নেন তিন উইকেট। শরিফুল নেন দুই উইকেট। তাসকিন ও মুস্তাফিজ পান একটি করে উইকেট।

তিন উইকেট ও ৫৭ রানের সুবাদে প্লেয়ার অব দ্যা ম্যাচ পুরস্কার পান মেহেদি হাসান মিরাজ।

কৃতজ্ঞতা : পার্সটুডে

IT Amadersomaj