সাজ্জাদ শাকিল :
কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ঘিরে সংঘাত ও সংঘর্ষে মানবাধিকার সংগঠন মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের (এমএসএফ) প্রতিবেদনে কিছু তথ্য উঠে এসেছে। সংগঠনটি প্রতি মাসেই মানবাধিকার পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রতিবেদন দেয়।
এমএসএফের পাঠানো প্রতিবেদন বলছে, কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ঘিরে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ, হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় করা মামলায় কথিত নাশকতার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে এখন পর্যন্ত ১৮টি জেলায় ২৫৯ শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আন্দোলনকে কেন্দ্র করে অন্তত ২৬৬ জন মারা গেছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ৭ হাজার ৭৩০ জন।
আন্দোলনকে ঘিরে পরবর্তী সংঘাতের ঘটনায় শিক্ষার্থীসহ সাধারণ নাগরিকদের ওপর রাষ্ট্রীয় আক্রমণ, রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধ্বংস এবং আন্দোলন দমাতে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়, অনেক সংবাদমাধ্যম নিহত তরুণ-কিশোর-শিশুদের আড়াল করতে গাড়ি ও স্থাপনা ধ্বংসের খবরের বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। অপর দিকে চলেছে গণহারে ধরপাকড়।
এমএসএফের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, যেসব প্রতিষ্ঠানে আগুন দেওয়া হয়েছে, সেগুলো প্রায় কাছাকাছি জায়গায় অবস্থিত। আক্রান্ত বন ভবন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, সেতু ভবন, ডেটা সেন্টার, বিআরটিএ, বাংলাদেশ টেলিভিশন সেন্টার স্পর্শকাতর স্থাপনা। এসব স্থাপনা রক্ষায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তারক্ষী থাকার কথা থাকলেও ঘটনার সময় তাঁরা ছিলেন না।
এ পরিস্থিতিতে মানবাধিকার সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে রাজনৈতিক চর্চা, শান্তিপূর্ণ নির্বাচন, সুষ্ঠুভাবে ভোট প্রদানের অধিকার, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সমমর্যাদা ও নাগরিক জীবনের নিরাপত্তার বিষয়গুলো বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলোর কাছে জোর দাবি জানিয়েছে এমএসএফ।


মতামত
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনিই প্রথম মতামত দিন!
আপনার মতামত দিন