জুলহাস আহমেদ, বরগুনা প্রতিনিধি :
বরগুনা সদর উপজেলার ৪ নং কেওড়াবুনিয়া ইউনিয়নের "হরিদ্রাবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়" এর প্রধান শিক্ষক ঈদে মিলাদুন্নবী পালন না করে, স্কুল বন্ধ ঘোষণা করে দিয়েছন দাবি সহকারী শিক্ষকদের।
শিক্ষা অধিদফতরের নির্দেশনায় দেখা যায়, ১৬ সেপ্টেম্বর (সোমবার) ১২ রবিউল আউয়াল পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী। আজকের এ দিন দেশের সব সরকারি-বেসরকারি সব স্কুল ও মাদ্রাসায় হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর জীবন, কর্ম ও শিক্ষা এবং ইসলামে শান্তি, প্রগতি নিয়ে আলোচনা সভা, দোয়া ও মিলাদ আয়োজন করার নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা অধিদপ্তর।
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানাজায়, দেশের সার্বিক পরিস্থিতিতে কয়েক দিন বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় অস্বাভাবিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আজকের এমন দিনে স্কুল বন্ধ করে রাখার কারণ জানতে চেয়েছেন তারা। তাহলে কি শিক্ষকরা আমাদের বাচ্চাদের ইসলাম সম্পর্কে জানতে দিতে চাচ্ছে না এমন প্রশ্ন তুলেন স্থানীয়রা। এসময় তারা স্কুলের বিভিন্ন অনিয়মের কথা তুলে ধরেন যেমন, ছাত্র ছাত্রীদের দিয়ে শিক্ষকদের ব্যক্তিগত কাজ করানো, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক স্কুলে তার বাচ্চাদের নিয়ে আসে ও স্কুলের বাচ্চাদের মাধ্যমে তার বাচ্চাদের লালন পালন করায়, স্কুলের বরাদ্দকৃত অর্থের কাজ না করে টাকা তুলে ও পুরাতন ভবনের মালামাল টেন্ডার ছাড়া বিক্রি করে টাকা আত্মসাৎ সহ স্কুলে না এসে আগেই শিক্ষক হাজিরা খাতায় সাক্ষর করে রাখেন যেমন ১১ সেপ্টেম্বর প্রধান শিক্ষক ১২ তারিখের সাক্ষর দিয়ে চলে যাওয়ার পরে বিষয়টি নজরে আসে সহকারী শিক্ষকদের পরে বিষয়টি জানাজানি হয়ে গেলে স্থানীয় একজন ফোন দিয়ে শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানালেও তারা কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত ও বিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।
এসময় বিষয়টি সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি কামনাও করেন তারা।
অত্র বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রাজু মোবাইল ফোনে বলেন,গত কাল আমাদের প্রধান শিক্ষক সকল ছাত্র ছাত্রী ও আমাদের জানিয়ে দিয়েছেন আজকে স্কুল বন্ধ থাকবে। অফিস থেকে কি নির্দেশনা আছে সেটা তিনিই ভালো বলতে পারবেন।
বিদ্যালয়ের অন্য এক সহকারী শিক্ষক মোখলেছুর রহমান বলেন, আমাদের স্কুলে আসতে বা বাচ্চাদের শিক্ষা দিতে কোন সমস্যা নেই । আমাদের বিদ্যালয়ের (ভারপ্রাপ্ত) প্রধান শিক্ষক তার কথা তো মানতে হবেই, কারণ নির্দেশনা তো তার কাছে আসে। স্কুল আজকে এই দিনে কেন বন্ধ রাখলেন সেটা তিনি ভালো বলতে পারবেন।
এবিষয়ে সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সুব্রত জানান,ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে সকল বিদ্যালয়ে নির্দেশনা দেয়া আছে। আজ তারা জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে ছাত্র ছাত্রীদের নিয়ে নবীজীর জীবনী ও অন্যান্য বিষয়ের ওপর আলোচনা ও দোয়া অনুষ্ঠান করার জন্য। কিন্তু এমনটা কেন করলো আমার জানা নেই । তবে আপনি স্যারের (উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা)সাথে কথা বলেন।
এ বিষয়ে জানতে "হরিদ্রাবারিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়" এর ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ইসরাত জাহানকে একাধিকবার তার মুঠো ফোনে ফোন দিয়েও পাওয়া যায়নি।
এবিষয়ে বরগুনা সদর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা লায়লা জেরিন বলেন, আমাদের প্রত্যেকটা স্কুলে সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা (এটিও) দের মাধ্যমে নির্দেশনা দিয়ে দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা অমান্য করলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনঅনুক ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে আশ্বাস দেন ও ওই স্কুলের দায়িত্বে থাকা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা (এটিও) আরিফুজ্জামানের সাথে কথা বলে নিউজ করার পরামর্শ দেন। তার সাথে যোগাযোগ করতে তার মুঠো ফোন একাধিকবার ফোন দিলেও পাওয়া যায়নি।


মতামত
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনিই প্রথম মতামত দিন!
আপনার মতামত দিন