এন,এস আবিদ, যশোর প্রতিনিধি :
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার বলাবাড়িয়া গ্রামের জামায়াত ইসলামী কর্মী হাফেজ আবুল কালাম মেম্বারকে অপহরণের পর হত্যার অভিযোগে এনে মামলা করা হয়েছে। ঘটনার প্রায় দশ বছর পর নিহতের ভাইপো জাহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে এডভোকেট রুস্তম আলীর মাধ্যমে মঙ্গলবার (১৬ই সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঝিনাইদহের বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি দায়ের করেন।
আদালত মামলাটি এজাহার হিসাবে নথি ভুক্ত করতে কোটচাঁদপুর থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন। এতে আসামি করা হয়েছে ৩ পুলিশ কর্মকর্তা, ১জন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান, ২জন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানসহ ১৯ জনকে।
আসামিরা হচ্ছেন, সাবেক ঝিনাইদহ পুলিশ সুপার আলতাফ হোসেন, এসআই মিজান, এ এস আই শিবু দত্ত, ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান খান, পুলিশের সোর্স মতিয়ার রহমান কালু ও কাউসার আলী, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন, সাইফুল ইসলাম, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি শরিফুননেছা মিকি, জহিরুল ইসলাম জহির, এনামুল সেম্বার, আব্দুর রশিদ, রবিউল ইসলাম রবি, রফিকুল ইসলাম মংলা, নজরুল ইসলাম, নাসির মেম্বার, তরিকুল ইসলাম রিয়াল, কিবরিয়া, মজনুর রহমান মজনু।
বাদী জাহিদুল ইসলামের অভিযোগ, ২০১৪ সালের এপ্রিল মাসের ১৮ তারিখ সকালে পুলিশ পরিচয়ে সাদা পোশাকে কয়েকজন তার চাচা আবুল কালাম মেম্বারকে বাড়ি থেকে একটি নীল রঙের মাইক্রো বাসে তুলে অপহরণ করে নিয়ে যায়। বাদিসহ পরিবারের লোকজন বিষয়টা নিয়ে কোটচাঁদপুর থানায় এলে থানা কর্তা কিছুই জানেন না বলে জানান। পরে তারা জানতে পারেন আবুল কালামকে অপহরণ করে ঝিনাইদহ সদর থানার বাজার গোপালপুর পুলিশ ফাঁড়ির দিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
অথচ সেখানেও আবুল কালাম নেই বলে পুলিশ জানিয়ে দেয়। ঘটনার তিনদিন পর ২১ এপ্রিল ভোরে বাদির পরিবার জানতে পারে ঝিনাইদহ সদর থানার মধুহাটি ইউনিয়নের মামুনসিয়া গ্রামের বকুলতলায় একটি গুলিবিদ্ধ লাশ পড়ে আছে। বাদিসহ পরিবারের লোকজন ঘটনাস্থলে যেয়ে হাফেজ আবুল কালাম মেম্বারের লাশ সনাক্ত করেন। বাদী পক্ষের অভিযোগ, আসামিদের হুমকির কারণে এতদিন তারা মামলা করতে সাহস পাননি।
বিষয়টি নিয়ে কোটচাঁদপুর থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সৈয়দ আল মামুন বলেন, আদালত থেকে মামলার নথি এখনো থানায় এসে পৌঁছায়নি। মামলার নথি হাতে পেলে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।


মতামত
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনিই প্রথম মতামত দিন!
আপনার মতামত দিন