এন, এস আবিদ মাহমুদ, যশোর প্রতিনিধি :
চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে এক নারীকে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের অভিযোগে আমির হোসেন জুলু (৫১) নামের সাবেক ইউপি সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার সকালে তাকে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। এর আগে গত সোমবার রাতে উপজেলার বকুন্ডিয়া গ্রাম থেকে তাকে আটক করা হয়।
১৩ই সেপ্টেম্বর রাতে ভুক্তভোগী নারীর সিজারিয়ানের মাধ্যমে কন্যা সন্তান জন্ম দিলে বিষয়টি জানাজানি হয়। তারপর ১৫ সেপ্টেম্বর রাতে অভিযুক্ত জুলু নামে ওই নারী বাদী হয়ে জীবননগর থানায় মামলা দায়ের করেন। গ্রেপ্তারকৃত আমির হোসেন জুলু উপজেলার বকুন্ডিয়া গ্রামের মাঝের পাড়ার মৃত আনসার আলী মন্ডলের ছেলে। তিনি হাসাদাহ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য ছিলেন।
ভুক্তভোগী নারীর ভাই আশরাফুল ইসলাম জানান, পারিবারিক অসচ্ছলতার কারণে বহু আগে তার বোন ঢাকায় গার্মেন্টস শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। সেই সুবাদে রংপুর জেলার বাসিন্দা হায়দার আলীর সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং বিবাহ করে।
পরবর্তীতে দীর্ঘদিন একসাথে সংসার করার পর আনুমানিক ২০১৯/২০ সালে তাদের ডিভোর্স হয়ে যায়। তারপর থেকে তার বোন বিয়ে-শাদী না করে বাপের বাড়িতেই বসবাস শুরু করে। বসবাসের একপর্যায়ে একই গ্রামের আমির হোসেন জুলু বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তার সাথে দীর্ঘ দিন অবৈধ সম্পর্কে লিপ্ত ছিলেন। গত ১৩ ই সেপ্টেম্বর রাতে প্রসাব বেদনা উঠলে আমি বিষয়টি জানতে পারি। পরবর্তীতে সেই রাতেই তাকে জীবননগরের একটি ক্লিনিকে সিজারিয়ানের মাধ্যমে একটি কন্যা সন্তান জন্ম দেন।
তিনি আরও জানান, জুলু মেম্বারের সাথে এ বিষয়ে কথা বললে তিনি অস্বীকার করেন। তারপর সকলের সিদ্ধান্তে আমরা তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করি। স্থানীয় এক যুবক জানান, জুলু মেম্বারের চারিত্রিক সমস্যা আছে। তিনি বিগতদিন আওয়ামী লীগ ক্ষমতা থাকাকালীন এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে একাধিক নারীর সাথে এ ধরণের অনৈতিক কর্মকান্ড করে বেড়িয়েছে। তাকে কেউ বাঁধা দিলে ক্ষমতার দাপটে তাকে বিভিন্ন ভাবে হয়রানি করতেন। এ বিষয়ে জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম জাবীদ হাসান জানান, ভুক্তভোগী নারী আসামির বিরুদ্ধে মামলায় দায়ের করলে আমরা তাকে গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে পাঠিয়েছি।


মতামত
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনিই প্রথম মতামত দিন!
আপনার মতামত দিন