রায়হানা মুন :
গত ৫ আগস্ট গণবিপ্লবের মুখে বাংলাদেশের স্বৈরশাসক শেখ হাসিনা পালিয়েছিলেন ভারতে। এরপর দেশটিতে অবস্থানের ৪৫ দিন পার হয়ে গেছে। কূটনৈতিক পাসপোর্টের ক্ষমতাবলে ৪৫ দিন বৈধভাবে অবস্থানের কথা থাকলেও অন্তর্বর্তী সরকার তার কূটনৈতিক পাসপোর্ট বাতিল করেছে বলে জানা যায়। সে হিসেবে ওই ৪৫ দিন বৈধ ছিল কি না, তা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। তবে, এ বিষয়ে মুখ খোলেনি ভারত।
৬ আগস্ট ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বলেছিলেন, খুব কম সময়ের নোটিশে শেখ হাসিনা ভারতে এসেছেন। এরপর গত মঙ্গলবার ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভিকে বাংলাদেশ বিষয়ে ‘দেশটিতে কী ঘটেছে তা তাদের আভ্যন্তরীণ বিষয়’ উল্লেখ করে সুসম্পর্ক রাখার বিষয়ে অভিমত জানালেও শেখ হাসিনার বিষয়ে মুখ খোলেননি তিনি।
এদিকে এক প্রতিবেদনে ভারতীয় আরেকটি গণমাধ্যম জিও নিউজ জানায়, বাংলাদেশের বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার বলেছে যে, তারা সহিংস বিক্ষোভের পর গত মাসে ভারতে পালিয়ে যাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনতে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করবে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়—বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) প্রধান মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, প্রধান অপরাধী দেশ ছেড়ে পালিয়েছে, আমরা তাকে ফিরিয়ে আনার জন্য আইনি প্রক্রিয়া শুরু করবো।উল্লেখ্য, আইসিটি প্রধান প্রসিকিউটর ফরাসি গণমাধ্যম এএফপিকে জানিয়েছিল, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের অপরাধ প্রত্যার্পণ চুক্তি রয়েছে, যা ২০১৩ সালে স্বাক্ষরিত হয়েছিল।
তবে, পাকিস্তানের জিও টিভিসহ ভারতের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদন ধারণা দিয়েছে যে, শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের হাতে তুলে দেওয়ার সম্ভাবনা নেই। তবে, কী ধরনের সিদ্ধান্তের পথে যাবে দেশটি, তা নির্ভর করছে তাদের ওপর।
এদিকে গত ১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন জানান, আদালত বললে শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে ফেরত আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে । ভারত দেবে কি না, এটা তাদের ব্যাপার। তবে চাইলে দিতেই পারে ভারত।
অধ্যাপক ইউনূস শেখ হাসিনা বিভিন্ন রাজনৈতিক বিবৃতিকে ‘অবন্ধুসুলভ’ বলে আখ্যায়িত করেন বলেন, ভারতে শেখ হাসিনার অবস্থানে কেউ স্বস্তিতে নেই। কেননা, বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে আমরা তাকে দেশে ফেরত আনতে চাই। তিনি ভারতে থাকছেন এবং একই সময় কথা বলছেন; যা সমস্যা তৈরি করছে।
এরপর ১৭ সেপ্টেম্বর ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এনডিটিভিকে বলেন, দেশটিতে কী ঘটেছে তা তাদের আভ্যন্তরীণ বিষয়। বাংলাদেশ আমাদের প্রতিবেশি। আমাদের দিক দিয়ে আমরা আগের মতোই সম্পর্ক রেখে চলতে চায়। দুদেশের মধ্যে ভালো বাণিজ্য আছে...জনগণের মধ্যে সুসম্পর্ক আছে...আমি এভাবেই সম্পর্ক রাখতে চাই।
এদিন শেখ হাসিনার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি জয়শঙ্কর। আবার ভারত ছাড়া কোনো দেশে যাবেন তিনি তাও জানা যায়নি। তবে, যুক্তরাজ্য তাকে নিতে রাজি হয়নি।
বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান নিয়ে মন্তব্য করেছেন শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট রনিল বিক্রমাসিংহে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ফার্স্টপোস্ট আজ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, অনেক নেতা দেশ ছেড়ে বিদেশে চলে যান। শেখ হাসিনার ক্ষেত্রেও যদি তিনি দেশের বাইরে থাকেন, তবে তাকে বাইরে থাকতে দিন। আমরা সবাই চাই বাংলাদেশ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসুক।


মতামত
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনিই প্রথম মতামত দিন!
আপনার মতামত দিন