এন এস আবিদ মাহমুদ, যশোর প্রতিনিধি :
ইলিশের সিন্ডিকেট সক্রিয় যশোরের বাজারে। যে কারণে ভরা মৌসুমেও চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে ইলিশ। বৃষ্টির অজুহাতে অস্বাভাবিক দামে বিক্রি হচ্ছে সব ধরনের সবজি। রেকর্ড দামে বিক্রি হচ্ছে বেগুন। স্বস্তি নেই অন্যান্য নিত্যপণ্যতেও।
রাজধানীর বাজারে যেখানে ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৬০০ থেকে এক হাজার ৫০০ টাকায় সেখানে যশোরে ইলিশ মাছ বিক্রি হচ্ছে ৬৫০ থেকে দুই হাজার টাকা কেজিতে। অন্যদিকে কেজিপ্রতি এক হাজার থেকে এক হাজার ২০০ টাকা কেজিতে ইলিশ রপ্তানি হয়েছে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে। তবে যশোরের চিত্র ভিন্ন। ভরা মৌসুমেও যশোরের বাজারে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে ইলিশ মাছ। ইলিশ কিনতে না পারার আফসোস ক্রেতাদের মাঝে। সিন্ডিকেট ভেঙে ইলিশ মাছ সাধারণের ক্রয় ক্ষমতার মধ্য আনার দাবি জানিয়েছেন ক্রেতারা।
খড়কী এলাকার সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা আসতে যাচ্ছে। একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বাজারে ইলিশ বিক্রি হবে না। এদিকে মৌসুমে আমরা ইলিশ থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। সিন্ডিকেট না ভাঙলে এমন অবস্থা চলতেই থাকবে। প্রশাসনকে অবশ্যই পদক্ষেপ নিতে হবে।
পোস্ট অফিস পাড়ার তপন কুমার বিশ্বাস বলেন, ইলিশ কিনতে এসে অনেকেই ফিরে যাচ্ছেন দাম শুনে। মৌসুমে এমন অস্বাভাবিক দাম মেনে নেয়া যায় না। বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
শংকরপুরের শাহেদ হোসেন বলেন, ভারতে কম দামে রপ্তানি করে আমাদের দেশি বাজারে বাড়তি দামে ইলিশ বিক্রি হবে, এটা মেনে নেয়া যায় না। ইলিশের দাম ক্রয়ক্ষমতার মধ্য আনতে হবে, সিন্ডিকেট ভাঙতে হবে। অন্যদিকে মাছ বিক্রেতারা বাজারে চাহিদার তুলনায় মাছের যোগান কম বলে জানান।
মাছ বিক্রেতা শংকর সাহা বলেন, অন্য বছরের তুলনায় এবারে বাজারে মাছ কম আসছে, তাই দাম বেশি। আরেক বিক্রেতা বজলুর রহমান বলেন, দাম তো আমাদের হাতে নেই, আড়ৎ থেকে বাড়তি দামে ইলিশ কিনে বিক্রি করতে হচ্ছে।
অন্যদিকে, ডিম আমদানির পরেও তার কোনো প্রভাব পড়েনি বাজারে। শুক্রবার শহরের বড়বাজারে প্রতি হালি ডিম বিক্রি হয় ৪৮ থেকে ৫০টাকা হালিতে। সোনালী মুরগির ডিম ৫৬ টাকা, দেশি মুরগির ডিম ৬৪ টাকা, হাঁসের ডিম ৭২টাকা এবং কোয়েল পাখির ডিম বিক্রি হয় ১৪ টাকা হালিতে। মাংসের বাজারে ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে গরুর মাংস। খাসির মাংস এক হাজার টাকা। ব্রয়লার মুরগি ১৯০ টাকা, সোনালী মুরগি ২৫০টাকা, লেয়ার মুরগি ৩৩০টাকা এবং দেশি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৫০০ টাকা কেজিতে।
অস্থিরতা বিরাজ করছে সবজির বাজারে। অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে শুক্রবার শহরের বড় বাজারে বেগুন বিক্রি হয় ১৫০ টাকা কেজিতে। সাধারণ মানের বেগুনও অস্বাভাবিক দামে বিক্রি হচ্ছে। এসব বেগুন ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। স্বস্তি ফেরেনি কাঁচামরিচে। বৃষ্টির অজুহাতে কাঁচামরিচ বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে। কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ২৬০ থেকে ২৮০ টাকা কেজিতে। অন্যান্য সবজিও বিক্রি হচ্ছে বাড়তি দামে। গাজর ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি। উচ্ছে, কচুরলতি ১০০ টাকা, করলা ৮০, বরবটি, ওল ৮০, শসা ৭০ থেকে ৮০, মিষ্টি কুমড়া ৫০, ঢেড়স, ঝিঙে ৭০, পটল, মুখি ৬০, চিচিঙ্গা ৭০ থেকে ৮০টাকা, কাকরোল ৭০, কাঁচকলা ৫০, লাউ ৪০ থেকে ৫০টাকা, পেঁপে ৩০টাকা। শীতকালীন সবজির মধ্য বাধাকপি ৭০, টমেটে ১২০, শিম বিক্রি হচ্ছে ৩২০টাকা কেজিতে। আলু ৫৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। সবজি বিক্রেতা সুকুমার সাহা বলেন, বৃষ্টির কারণে কাঁচামরিচ ও সবজি দ্রুত পচে যাচ্ছে, যে কারণে দাম বেড়েছে। সামনে সপ্তাহ থেকেই দাম কমে আসবে। আরেক বিক্রেতা পারভেজ শেখ বলেন, চলতি মৌসুমের অধিকাংশ সবজির ক্ষেত পানির নীচে, বাজারে চাহিদার তুলনায় সবজির সরবরাহ কম, তাই দাম বেশি।
এদিকে, আমদানির পরেও অব্যাহত রয়েছে পেঁয়াজের ঝাঁজ। পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকা কেজিতে। রসুন ২২০ থেকে ২৪০ টাকা। আদা ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা। অন্যান্য মশলাও বিক্রি হচ্ছে চড়া দামে। জিরা বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে এক হাজার টাকা কেজিতে। এলাচ তিন হাজার ৫০০ টাকা। লবঙ্গ এক হাজার ৬০০ থেকে দুই হাজার টাকা। গোলমরিচ এক হাজার টাকা। দারুচিনি ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা কেজি।
চালের বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত রয়েছে। মোটা ও চিকন সব ধরনের চাল বিক্রি হচ্ছে বাড়তি দামে। স্বর্না চাল ৫২ থেকে ৫৪ টাকা কেজি। আঠাশ ৬০ থেকে ৬২ টাকা। কাজললতা ৬০ থেকে ৬৫ টাকা। বাসমতি ৮২ থেকে ৯০ টাকা। নাজিরশাইল ৭৫ থেকে ৮৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
মুদি বাজারে খোলা সয়াবিন তেল ১৬৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৭০ টাকা লিটার। চিনি ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি। লবন ৪০টাকা কেজি। মুগ ডাল ১৬০ থেকে ১৭০টাকা। মসুরের ডাল ১১০ থেকে ১৪০টাকা। ছোলার ডাল ১৩০ থেকে ১৪০টাকা। বুটের ডাল ৭৫ টাকা। খোলা আটা ৪০ থেকে ৪৫ টাকা কেজি। প্যাকেট আটা ৫০ টাকা।


মতামত
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনিই প্রথম মতামত দিন!
আপনার মতামত দিন