এন এস আবিদ মাহমুদ, যশোর প্রতিনিধি :
যশোর সদর উপজেলার বালেশ্বরপুর গ্রামের আবু সিদ্দিককে হত্যার ঘটনায় লেবুতলা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আলিমুজ্জামান মিলনসহ আওয়ামী লীগের ১৬ জন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় মামলা হয়েছে। নিহতের ভাই আনোয়ার হোসেন ইদু এ মামলা করেছেন।
মামলার অপর আসামিরা হলেন সদর উপজেলার আন্দোলপোতা গ্রামের মৃত মতিয়ার বিশ্বাসের ছেলে তরিকুজ্জামান রিপন, মৃত মোনিম মোল্লার ছেলে তহিদুল, মৃত সিফাতুল্লা বিশ্বাসের দুই ছেলে সাক্কার ও বাক্কার, মৃত জবেদ আলীর ছেলে ইমদাদুল, মৃত আরশাদ গাজীর ছেলে রবিউল গাজী, আলা সরদারের ছেলে নিছার আলী, আলী উদ্দিন সরদারের ছেলে আলী আজগর, গহেরপুর গ্রামের হোসেন মোল্লার ছেলে ময়নুদ্দিন ময়না, এনায়েতপুর গ্রামের মোকছেদের ছেলে খায়রুল, তেজরোল গ্রামের মৃত যতিন ঘোষের ছেলে নব কুমার লব ষোষ, জগমোহনপুর গ্রামের নজিরের ছেলে বুলু, দলেননগর গ্রামের সরোয়ারের ছেলে রোকন, বাঘারপাড়ার কুটারাকান্দি গ্রামের বিষু মোল্লার ছেলে কামরুজ্জামান ও কৃষ্ণনগর গ্রামের দাউদের ছেলে এরশাদ।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, আবু সিদ্দিক বিএনপির একনিষ্ঠ কর্মী ছিলেন। তিনি গরুর খামার করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। আসামিরা আওয়ামী লীগের চিহ্নিত সন্ত্রাসী। পূর্ব শত্রুতার জের ধরে ২০১১ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি আসামিরা আবু সিদ্দিককে মারার জন্য আন্দোলপোতা বাজারের আব্বাসের চায়ের দোকানের সামনে অবস্থান নেন। আবু সিদ্দিক বাজারে না যাওয়ায় আসামি আলিমুজ্জামান মিলনের নেতৃত্বে অপর আসামিরা তার বাড়িতে চড়াও হন। আবু সিদ্দিক আসামিদের উপস্থিতি টের পেয়ে কৌশলে পালিয়ে যান। আসমিরা তার ঘরে ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাট করেন। এরমধ্যে বাড়ির পাশে বাগানে আবু সিদ্দিকের উপস্থিতি টের পেয়ে ধাওয়া করলে জীবন বাঁচাতে চিত্রা নদীতে ঝাপ দেন তিনি। আসামিরা পানিতে নেমে আবু সিদ্দিককে ধরে এনে মারপিট করেন এবং অপহরণ করে নিয়ে যান।
ওইদিন রাত ৮টার দিকে গহেরপুর রহিমা ক্লিনিকের দক্ষিণ পাশের রাস্তা থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় আবু সিদ্দিককে উদ্ধার করা হয়। চিকিৎসার জন্যে তাকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার পথে রাত ১০টার দিকে খাজুরা বাসস্ট্যান্ড মোড়ে পৌঁছালে মারা যান আবু সিদ্দিক। আসামিদের ভয়ে মরদেহ নিয়ে যান ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের ফুলবাড়ি গ্রামে তার মামাত ভাইয়ের বাড়িতে। আসমিরা সংবাদ পেয়ে ফুলবাড়ি গ্রাম থেকে আবু সিদ্দিকের মরদেহ বালেশ্বরপুর নিয়ে এসে পরিবারের সদস্যদের অনুপস্থিতিতে দাফন করেন।
এ ঘটনার পর আসামিদের ভয়ে নিহত আবু সিদ্দিকের পরিবারের সদস্যরা কেউ বাড়ি ফিরতে পারেননি। বর্তমানে পরিবেশ অনুকুলে আসায় বাদী ভাই হত্যার বিচারের দাবিতে মামলা করেছেন বলে এজাহারে উল্লেখ করেছেন।


মতামত
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনিই প্রথম মতামত দিন!
আপনার মতামত দিন