জুলহাস আহমেদ, বরগুনা প্রতিনিধি :
অনুমোদন কিংবা রেজুলেশন ছাড়াই বিদ্যালয়ের গাছ কেটে হেফাজতে রাখা সেই বধূঠাকুরানী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোতালেব মিয়ার বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উল্লেখ করে লিখিত দরখাস্ত দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগ দায়েরের বিষয়টি কালবেলাকে নিশ্চিত করেছেন বরগুনা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ডিপিও) আবু সালেহ মুসলেহ।
বৃহস্পতিবার (১৯ ডিসেম্বর) দুপুরে বরগুনা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে জনৈক সবুজ নামের একব্যক্তি স্থানীয় গণ্যমাণ্য ব্যক্তিদের স্বাক্ষর সংযুক্ত করে দরখাস্তটি দায়ের করেছেন। সবুজ সদর উপজেলার ৫নম্বর আয়লা পাতাকাটা ইউনিয়নের বধূ ঠাকুরানী এলাকার আঃ গণি'র ছেলে।
দায়েরকৃত দরখাস্তে সবুজ উল্লেখ করেন, সদর উপজেলার ৫নম্বর আয়লা পাতাকাটা ইউনিয়নের বধুঠাকুরানী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যাললেয় প্রধান শিক্ষক মোঃ আঃ মোতালিব ও সহকারী শিক্ষক মোসাঃ লুৎফুন্নেছা (শিলা বেগম) দুইজনেই সম্পর্কে স্বামী-স্ত্রী। উভয়েই একই বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন চাকরির সুবাদে অনিয়ম দুর্নীতি করে আসছেন। কোন নিয়ম কানুনের তোয়াক্কা না করেই প্রধান শিক্ষক মোতালেব মিয়া ও শিলা বেগম দুইজনেই তাহাদের সুবিধামত বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করাসহ সর্বদা নিজেদের খেয়াল খুশিমত ক্লাশ পরিচালনা ও করেন। যার ফলে শিশু শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে গভীর নলকূপ, শহীদ মিনার স্থাপন, ওয়াশ ব্লক নির্মাণ, শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা সামগ্রী কেনাকাটার কাজে প্রধান শিক্ষক মোতালেব মিয়া বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি ও অভিভাবকদের চোখ ফাঁকি দিয়ে দূর্নীতির আশ্রায় গ্রহণ করিয়াছেন। বিভিন্ন সময় তিনি বিদ্যালয়ের জমিতে রোপিত বিভিন্ন জাতের পরিপক্ক গাছ কেটে বিক্রিত অর্থ তিনি বিদ্যালয়ের উন্নয়ন মূলক কাজে ব্যয় না করিয়া নিজে উক্ত অর্থ আত্মাসাৎ করিয়াছেন। বর্তমানে উক্ত শিক্ষক দুইজন এতই উত্তেজিত যে, তাহারা শিক্ষার্থীদের সাথে এবং তাহাদের অভিভবাকদের সাথে খারাপ আচরণ করেন বলে দরখাস্তে উল্লেখ করেন সবুজ।
এছাড়াও বিগত দিনে তাহাদের বিরুদ্ধে উপজেলা শিক্ষা অফিসে একাধিবার অভিযোগ করে প্রতিকার না পাওয়ার কথা উল্লেখ করে, বিদ্যালয় ও শিশু শিক্ষা কার্যক্রমের স্বার্থে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার মাধ্যমে অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ন্যায় বিচারের আবেদন করা হয়েছে।
বরগুনা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ডিপিও) আবু সালেহ মুসলেহ বলেন,আমি অভিযোগ পেয়েছি,আমি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (টিও) লায়লা জেরিন আক্তারকেকে দায়িত্বে দিয়েছি উনি তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।


মতামত
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনিই প্রথম মতামত দিন!
আপনার মতামত দিন