মোহাম্মদ শেখ কামালউদ্দিন স্মরণ :
বাংলাদেশের চট্টগ্রাম-আরাকান রুটে সাম্প্রতিক “ইন্টারিম হিউম্যানিটারিয়ান করিডোর” অনুমোদনের সিদ্ধান্তটি যথেষ্ট উদ্বেগজনক। জাতীয় সংসদ, রাজনীতিবিদ, নাগরিক সমাজ এমনকি সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ বা মতামত ছাড়াই নেওয়া হয়েছে এই ভূরাজনৈতিক পদক্ষেপ, যার পরিণতি হতে পারে আমাদের সার্বভৌমত্বের চরম বিপর্যয়।
“হিউম্যানিটারিয়ান করিডোর” শব্দটি শুনতে যতটা মানবিক, বাস্তবে এর অর্থ বহুক্ষেত্রে হয়েছে “নিয়ন্ত্রিত আক্রমণ”। সিরিয়া, ইরাক, লিবিয়া, গাজা ও আফগানিস্তান — এদের ইতিহাস আমাদের শিক্ষা দেয় যে করিডোরের মাধ্যমে প্রবেশ করে এনজিও’র ছদ্মবেশে গোয়েন্দা সংস্থা, সামরিক ম্যাপিং, ড্রোন নজরদারি, অস্ত্র সরবরাহ এবং পরবর্তীতে স্থানীয় জনগণের জীবনধারায় হস্তক্ষেপ। শেষে যা হয় তা হলো—নিজস্ব ভূখণ্ডের উপর নিজস্ব নিয়ন্ত্রণ হারানো।
চট্টগ্রাম-আরাকান অঞ্চল এশিয়ার একটি কৌশলগত এবং ধর্মীয়ভাবে সংবেদনশীল অঞ্চল। এখানে চীনের Belt & Road Initiative-এর অন্যতম প্রবেশপথ, বঙ্গোপসাগরীয় সামুদ্রিক নিরাপত্তা করিডোর এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মুসলিম সত্ত্বার একটি গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত। এই করিডোরের মাধ্যমে বিদেশি তৎপরতা শুধু চীনের কৌশলগত বিরোধিতা করবে না, বরং ভবিষ্যতে এই এলাকাকে "সেফ জোন" বা জাতিসংঘ-নিয়ন্ত্রিত বাফার জোনে পরিণত করার ঝুঁকিও তৈরি করবে।
আমাদের আশঙ্কা আরও গভীর হয় যখন দেখি এই করিডোরের সাথে সাথে প্লুরালিজম সংযোজন, UNICEF-এর শিশুবিচার আদালত, Starlink-এর লাইসেন্স, LGBTQ অ্যাজেন্ডা এবং বিদেশি ওষুধ-ফার্মার একচেটিয়া বাজার গঠনের মতো ‘soft invasion’ গুলোও নীরবেই বাস্তবায়িত হচ্ছে। এই প্যাটার্ন ইঙ্গিত দেয়—এটি কেবল একটি করিডোর নয়, একটি পরিপূর্ণ ভূরাজনৈতিক পুনর্বিন্যাসের সূচনা।
আমরা সম্পাদকীয় স্তর থেকে জোর দিয়ে বলছি — বাংলাদেশ কারো যুদ্ধের মঞ্চ হতে পারে না। আমাদের দেশের মাটি, নদী, পাহাড়, সংস্কৃতি ও ধর্মীয় পরিচয়কে “মানবতার” ছায়ায় বিলিয়ে দেয়া যাবে না। আমাদের প্রয়োজন জনগণের সম্মতি, পার্লামেন্টারি তদারকি, গবেষণা-ভিত্তিক নীতিনির্ধারণ এবং সর্বোপরি—একটি সুস্পষ্ট জাতীয় কূটনৈতিক অবস্থান।
সরকার ও নাগরিক সমাজের প্রতি আমাদের আহ্বান: করিডোর নয়, করিডোরের পরিণতি ভাবুন।
_ মোহাম্মদ শেখ কামালউদ্দিন স্মরণ
লেখক ও কলামিস্ট।


মতামত
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনিই প্রথম মতামত দিন!
আপনার মতামত দিন