নাঈম ইসলাম তালতলী (বরগুনা)প্রতিনিধি :
তালতলী উপজেলার তালতলী সরকারি স্কুল ও কলেজের পাশে বটতলা এলাকায় একটি বটগাছে ঝুলছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন। গাছে পেরেক ঢুকিয়ে ব্যানার, সাইনবোর্ড মতো ক্ষতবিক্ষত হয়ে অস্তিত্বসংকটে পড়েছে বটগাছটি। স্থানীয়দের অভিযোগ গাছটিতে কমপক্ষে ১০ কেজি পেরেক ঠুকে বিজ্ঞাপন ঝোলানো হয়েছে।
আমতলী-তালতলী মহাসড়কের পাশে ও রাখাইন পল্লীতে প্রবেশপথের পাশে বিশাল একটি বটগাছ।প্রায় অর্ধশত বছর এখানে দাঁড়িয়ে আছে। এই বট গাছের কারণে জায়গাটির নাম হয়ে গেছে বটতলা। কিন্তু গাছটিতে পেরেক ঠুকে বিভিন্ন ক্লিনিকের ডাক্তার,শিক্ষা প্রতিষ্ঠান,কোচিং সেন্টার,ডায়াগনস্টিক সেন্টার,রাজনৈতিক ব্যানারে বিজ্ঞাপন লাগানো হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনে ছেয়ে গেছে উপজেলার অলিগলি। তার অধিকাংশ লাগানো হচ্ছে সড়ক মহাসড়কের পাশের গাছে। এতে করে সড়কের গাছগুলো রয়েছে ঝুঁকির মধ্যে।
বিশ্ববরেণ্য বিজ্ঞানী জগদীশচন্দ্র বসু প্রমাণ করেছেন,উদ্ভিদেরও প্রাণ আছে। তাই অন্যান্য প্রাণীর মতো উদ্ভিদও আঘাত পেলে কষ্ট পায়।গাছে পেরেক ঠোঁকার মতো নির্মম ও নিষ্ঠুর কাজটি ব্যবসায়ীরা বহু বছর ধরে নির্দ্বিধায় করে যাচ্ছেন।
তালতলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পরিমল চন্দ্র বলেন,গাছটির সবুজ পাতার চেয়ে বিজ্ঞাপন বেশি দেখা যায়। বিজ্ঞাপনের পেরেকের কারণে গাছের বিভিন্ন অংশে পচন ধরেছে। ঐতিহ্যবাহী এই বটগাছটি পেরেকমুক্ত করা
সময়ের দাবি।
উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি শাহাদাত হোসেন বলেন,বটগাছটি এখন অস্তিত্ব হারাতে বসেছে।এই গাছে এত বেশি বিজ্ঞাপন,যা অন্য কোথাও নেই। এ ছাড়া তালতলী উপজেলা শহরের বিভিন্ন অলিগলিতে রাস্তার মোড়ে মোড়ে গাছের সঙ্গে পেরেক দিয়ে বিজ্ঞাপন লাগানো হয়। নিষ্ঠুর এই পেরেকের আঘাতে অনেক গাছ ইতিমধ্যে মরে গেছে। স্থানীয় প্রশাসনের কাছে অনুরোধ, গাছগুলোকে পেরেকমুক্ত ও বিজ্ঞাপন মুক্ত রাখা হোক।
স্থানীয় একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অনেক বছর ধরে বটগাছটি বিজ্ঞাপনের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রায় সময় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন লোহার পেরেক দিয়ে এখানে ঝোলানো হয়।এছাড়া এই বটতলা এলাকা খুবই জন গুরুত্বপূর্ণ। এখানে প্রতিদিন শত শত মানুষের সমাগম হয়।বিজ্ঞাপন যেন মানুষের দৃষ্টি না এড়ায়,এ জন্য গাছের ওপর এমন নিষ্ঠুরতা যারা এমন নিষ্ঠুর কাজ করে,তাদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তারা।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার উম্মে সালমা বলেন,খোঁজ নিয়ে দেখে বটগাছটিকে বিজ্ঞাপন মুক্ত ও পেরেকমুক্ত রাখার উদ্যোগ দ্রুত নেওয়া হবে ।
মতামত
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনিই প্রথম মতামত দিন!
আপনার মতামত দিন