সংস্কৃতি ডেস্ক | ঢাকা :
বিদীর্ণ জনপদের আর্তনাদ ও অপরাজেয় জীবনের আখ্যান: নজর কাড়ছে ‘আমার দেখা হাওরের জীবন ও বৈচিত্র’
বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুবিশাল জলরাশি কেবল মায়াবী সৌন্দর্যের আধার নয়, বরং তার অতল গহ্বরে লুকিয়ে আছে এক অবহেলিত সভ্যতার দীর্ঘশ্বাস। হাওরবাসীর সেই রূঢ় বাস্তবতাকে সাহিত্যের ক্যানভাসে জীবন্ত করে তুলেছেন লেখিকা তিব্বি রুহানী।
অমর একুশে বইমেলা ২০২৭-এ ‘আমাদের সমাজ প্রকাশনী’ থেকে প্রকাশিত হতে যাচ্ছে তাঁর গবেষণালব্ধ উপন্যাস "আমার দেখা হাওরের জীবন ও বৈচিত্র"। বইটি সম্পাদনা করেছেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন, লেখক ও কলামিস্ট, নিউরোসায়েন্টিস্ট এবং গবেষক ডা. মোহাম্মদ শেখ কামালউদ্দিন স্মরণ।
নাগরিক কোলাহল থেকে জলজ নির্জনতায়: লেখিকা তিব্বি রুহানী ইট-কাঠ পাথরের ধূসর অরণ্য আর যান্ত্রিক শহর ঢাকা ছেড়ে জীবন ও পেশার তাগিদে যখন নেত্রকোনার দুর্গম হাওরবেষ্টিত জনপদ খালিয়াজুরীর সাথে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত হলেন, তখন তাঁর সামনে উন্মোচিত হলো এক ভিন্ন পৃথিবী। তিনি হাওরকে কেবল একজন বহিরাগতের চোখে দেখেননি, বরং এই জলমগ্ন মাটির ঘ্রাণকে নিজের অস্তিত্বের সাথে মিশিয়ে নিয়েছেন।
তাঁর এই দীর্ঘ পর্যবেক্ষণ কেবল কল্পকাহিনী নয়, বরং ইহা প্রান্তিক মানুষের যাপিত জীবনের এক প্রামাণ্য নৃবৈজ্ঞানিক দলিল।
একটি মরণপণ লড়াইয়ের চিত্রায়ন:
বইটির পরতে পরতে উঠে এসেছে হাওরবাসীর দ্বিমাত্রিক অস্তিত্বের গল্প। একদিকে বর্ষায় ‘আফাল’-এর (ভয়ঙ্কর ঢেউ) গর্জন আর উত্তাল ঢেউয়ের সাথে মানুষের মরণপণ সংগ্রাম, অন্যদিকে বোরো ধানের সোনালী স্বপ্নে বিভোর থাকা কৃষকের চোখে অকাল বন্যা আর বজ্রপাতের নির্মম হাহাকার। লেখিকা অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে তুলে ধরেছেন ‘রিণা সরকার’-এর মতো সেইসব মায়েদের ট্র্যাজেডি, যারা প্রসব যন্ত্রণায় হাসপাতালের পথ চেয়ে নৌকোর পাটাতনেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে।
উঠে এসেছে ‘দাদন’ প্রথার সেই বিষাক্ত ছোবল, যা একটি স্বাধীন দেশের মানুষকে আজও আধুনিক দাসে রূপান্তর করে রেখেছে
সম্পাদক ও সুধীজনের মূল্যায়ন:
বইটির গুরুত্ব সম্পর্কে লেখক - কলামিস্ট, গবেষক, সম্পাদক, ডা. মোহাম্মদ শেখ কামালউদ্দিন স্মরণ বলেন, "এই গ্রন্থটি কেবল পাঠ করার জন্য নয়, বরং এই বইটি আত্মস্থ করার জন্য। এই বইটি আমাদের তথাকথিত উন্নয়নের দর্পণে এক বিশাল চপেটাঘাত। তিব্বি রুহানী হাওরের জল ও মাটির সেই অব্যক্ত বেদনাকে যেভাবে শব্দবদ্ধ করেছেন, তা সমাজতাত্ত্বিক গবেষণার ক্ষেত্রে এক নতুন মাইলফলক হয়ে থাকবে।"
বৌদ্ধিক মহলের মতে, আইনজীবী, কলামিস্ট, সমাজকর্মী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য এই বইটি কেবল একটি উপন্যাস নয়, বরং এই বইটি সমাজ ও রাষ্ট্রের নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে এক শাণিত ইশতেহার।
লেখিকার অনুভূতি:
লেখিকা তিব্বি রুহানী বইটির ভূমিকা লিখতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, "এই বইটি আমার কাছে কেবল কালির অক্ষর নয়, এই বইটি আমার গর্ভজাত সন্তানের মতো। হাওরবাসীর হাহাকার আর অদম্য প্রাণশক্তিকে আমি বিশ্ববাসীর কাছে পৌঁছে দিতে চেয়েছি।"
আকর্ষণীয় অফার ও প্রাপ্তিস্থান:
প্রিমিয়াম হার্ডকভার ও ঝকঝকে মুদ্রণে তৈরি এই বইটির গায়ের মূল্য ৫০০ টাকা। তবে বিশেষ অফার হিসেবে পাঠকরা পাচ্ছেন ৩০% ডিসকাউন্ট,
যার ফলে মাত্র ৩৫০ টাকায় সংগ্রহ করা যাবে এই অমূল্য রতন।
বইটি সরাসরি প্রকাশনী ছাড়াও অনলাইন প্ল্যাটফর্ম rokomari.com এবং Neerbazar.com-এ প্রি-অর্ডার করা যাচ্ছে।
শেকড়কে জানতে এবং প্রান্তিক মানুষের ললাটের ঘাম ও চোখের জলের ভাষা বুঝতে "আমার দেখা হাওরের জীবন ও বৈচিত্র" প্রতিটি সচেতন মানুষের সংগ্রহে রাখা জরুরি।


মতামত
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনিই প্রথম মতামত দিন!
আপনার মতামত দিন