সাংবাদিক ফারজানা রুপা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী
কলম বন্দি, চোখে অশ্রু: সাংবাদিক ফারজানা রুপার ঘটনাটি আমাদের কী শেখায়?
সাংবাদিকতা আমার নেশা নয়, দায়িত্ব। ছোটবেলা থেকেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াবো, দুর্নীতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করব, নিপীড়িত মানুষের কণ্ঠ হব—এই স্বপ্নে বিভোর ছিলাম। সেই পথেই আমি হাঁটছি—কখনো কলম হাতে, কখনো রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মে। আমি বিশ্বাস করি, একজন সাংবাদিক শুধু খবরের ভাষ্যকার নন, তিনিই সমাজের বিবেক, দুর্নীতির মুখোশ খুলে ফেলার নির্ভীক সৈনিক।
কিন্তু, আজ যখন কলম ধরতে যাই, আমার হৃদয় ভার হয়ে আসে। কারণ আমি লিখতে বসেছি একজন সহকর্মী, একজন সহযোদ্ধার প্রহসনের গল্প—সাংবাদিক ফারজানা রুপার জীবন থেকে নেওয়া এক নির্মম বাস্তবতার চিত্র।
ফারজানা রুপা—দেশের একজন নির্ভীক নারী সাংবাদিক, যিনি বহু বছর ধরে তথ্য, সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে কাজ করে যাচ্ছিলেন। তাঁর মা হোসনে আরা বেগম যখন এই পৃথিবী ছেড়ে চলে যান, তখনও তিনি ছিলেন কারাগারের অন্ধকার কক্ষে। অনেক চেষ্টার পর মাত্র চার ঘণ্টার প্যারোল পেয়েছেন মা'র দাফনে অংশ নেওয়ার জন্য।
এই ঘটনা কি শুধু একজন সাংবাদিকের ব্যক্তিগত দুর্ভাগ্য? না, এটা গোটা রাষ্ট্রব্যবস্থার একটি নির্মম প্রতিচ্ছবি। একটি মানবিক মুহূর্তে—যেখানে একটি সন্তান তার মা’র কবরের মাটি হাতে দিতে চায়—সেখানে তাকে আদালত আর আমলাতন্ত্রের গোলকধাঁধায় বারবার আবেদন করতে হয়, অপেক্ষা করতে হয় অনুমতির জন্য।
আমার মনে পড়ে যায় আমার নিজের মায়ের মুখ। আমি এই পৃথিবীতে যার জন্য নিঃশর্ত ভালোবাসা অনুভব করি, সেই মায়ের মৃত্যুর সময় যদি আমি বন্দি থাকি? যদি আমার মায়ের কফিনে শেষ চুমু দেওয়ারও সুযোগ না পাই? এই ভেবে শিউরে উঠি। আমি লিখি, আমি রাজনীতি করি, আমি প্রতিবাদ করি—তবু এই রাষ্ট্র কি আমাকে এমন মানবিক অধিকারে সাড়া দেবে?
একজন সাংবাদিককে যদি তার শেষ মুহূর্তেও তার মায়ের প্রতি দায়িত্ব পালনের অধিকার না দেওয়া হয়, তাহলে আমাদের রাষ্ট্রব্যবস্থার মানবিকতা কোথায়?
আমরা দেখেছি, কারাগারে থাকা দুর্নীতিবাজ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা হাসপাতালের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে দিন কাটাচ্ছেন, সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হাসপাতালের বেডে বসে মিডিয়াকে সাক্ষাৎকার দিচ্ছেন। কিন্তু একজন সাংবাদিক, একজন নারী, একজন কন্যা—তাকে দেওয়া হয় মাত্র চার ঘণ্টার প্যারোল! এর নাম কি ন্যায়বিচার?
এই প্রশ্ন শুধু একজন সাংবাদিকের নয়, এটা আমাদের সকলের। এটা বিচার বিভাগের, রাষ্ট্রযন্ত্রের এবং আমাদের মানবিক চেতনাবোধের।
আমি ফারজানা রুপার পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই। তার মা হোসনে আরা বেগমের রুহের মাগফিরাত কামনা করি। একইসাথে এই রাষ্ট্রের কাছে দাবি জানাই—সাংবাদিকরা যেন ভয়ের মধ্যে না থাকেন। যেন সাংবাদিকতা অপরাধ না হয়। যেন আমরা একদিন এমন একটি রাষ্ট্রে পৌঁছাতে পারি, যেখানে একজন কন্যা অন্তত মায়ের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে বলতে পারেন—“মা, আমি এসেছি।”
মোহাম্মদ শেখ কামালউদ্দিন স্মরণ
রাজনৈতিক বিশ্লেষক, লেখক ও কলামিস্ট।
শহীদ সোহরাওয়ার্দী এভিনিউ, ব্লক কে, বারিধারা কূটনৈতিক অঞ্চল, ঢাকা-1212
সম্পাদক
তৌহিদুল ইসলাম মিন্টু
নির্বাহী সম্পাদক
মতিউর রহমান
প্রকাশক
আমাদের সমাজ মিডিয়া লিমিটেড
আমাদের সমাজ মিডিয়া লিঃ এর একটি প্রতিষ্ঠান।
নিউজ
ফোনঃ +1 916-934-7384
Email: amadersomajonline@gmail.com
বিজ্ঞাপণ
ফোনঃ +1 916-934-7384
Email: amadersomajonline@gmail.com
©২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত |amadersomaj.com