ঢাকা, ১৪ মার্চ, ২০২৬
মোহাম্মদ শেখ কামালউদ্দিন স্মরণ :
প্রকাশিত : ০১:১৪ পিএম, ১০ মার্চ ২০২৬
Digital Solutions Ltd

হাদি হত্যাকাণ্ড: গ্রেপ্তারের পরও রয়ে গেছে বহু প্রশ্ন



প্রকাশিত : ০১:১৪ পিএম, ১০ মার্চ ২০২৬

হাদি ও ফয়সাল। আর্কাইভ থেকে নেওয়া ছবি



মোহাম্মদ শেখ কামালউদ্দিন স্মরণ :

ভারতে ভারতীয় পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন হাদি হত্যাকাণ্ডের অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেন। তাদের ১৪ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। এই গ্রেপ্তার ঘটনাটি হত্যাকাণ্ডের তদন্তে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হলেও, এর সঙ্গে সঙ্গে নতুন কিছু প্রশ্ন ও বিতর্কও সামনে এসেছে।

 

হাদি হত্যার পর ঘটনাটি দ্রুতই জাতীয় রাজনীতির একটি বড় ইস্যুতে পরিণত হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু হলের নাম পরিবর্তন করে ওসমান হাদীর নামে নামকরণের দাবি ওঠে। এমনকি কেউ কেউ দাবি তুলেছিলেন—হাদি হত্যার বিচার না হওয়া পর্যন্ত দেশে কোনো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া উচিত নয়। একই সময়ে হত্যাকাণ্ডের প্রতিক্রিয়ায় প্রথম আলো, ডেইলি স্টার, উদীচী ও ছায়ানটসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে।

 

তবে এখন যখন হত্যাকাণ্ডের অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের খবর সামনে এসেছে, তখন দেখা যাচ্ছে—যেসব রাজনৈতিক দল ও গোষ্ঠী এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সবচেয়ে বেশি সরব ছিল, তাদের অনেকেই এ বিষয়ে উল্লেখযোগ্য প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছে না। জামাত-শিবির, এবি পার্টি ও এনসিপিসহ কিছু দল, যারা পরে ১১ দলীয় জোট হিসেবে একত্রিত হয়েছে, তাদের নীরবতা অনেকের কাছেই প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে।

 

হত্যাকাণ্ডের পর বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন দাবি ও অভিযোগ সামনে এসেছিল। ইনকিলাব মঞ্চ প্রথমে দাবি করেছিল যে হত্যাকারীরা দেশেই রয়েছে। পরবর্তীতে তারা সরাসরি বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাসকে দায়ী করে বক্তব্য দেয়। আবার এক পর্যায়ে ইনকিলাব মঞ্চ, এবি পার্টি, এনসিপি, জামাত-শিবিরের নেতারা এবং আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমানসহ অনেকে এই ঘটনার জন্য ভারতকে অভিযুক্ত করেছিলেন। এমনকি হাসনাত আব্দুল্লাহ ভারতের সেভেন সিস্টার্স অঞ্চলকে বিচ্ছিন্ন করার হুমকিও দিয়েছিলেন।

 

কিন্তু এখন পরিস্থিতি ভিন্ন। যেই ভারতকে আগে এই ঘটনার জন্য অভিযুক্ত করা হয়েছিল, সেই দেশই এখন অভিযুক্ত হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করেছে। পাশাপাশি তাদের দেশে ফেরানোর বিষয়ে বর্তমান সরকারও কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছে।

 

এ অবস্থায় নতুন করে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে—ফয়সাল করিম মাসুদ কীভাবে হাদি এবং ইনকিলাব মঞ্চের সঙ্গে এত ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠল? আওয়ামী লীগ-সম্পৃক্ত হিসেবে পরিচিত এই ফয়সাল হঠাৎ করে হাদির ঘনিষ্ঠ সহযোগী হয়ে উঠেছিল কি না, নাকি এর পেছনে কোনো সংগঠিত প্রক্রিয়া বা মধ্যস্থতাকারী ছিল—সেটিও এখন আলোচনার বিষয়।

 

সুতরাং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার হওয়া নিঃসন্দেহে তদন্তের একটি অগ্রগতি। কিন্তু এই হত্যাকাণ্ডের পেছনের প্রকৃত পরিকল্পনা, কারা পর্দার আড়ালে ভূমিকা রেখেছিল এবং কীভাবে ঘটনাটি এত বড় রাজনৈতিক ইস্যুতে রূপ নিয়েছিল—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনও স্পষ্ট নয়।

 

অতএব, এখন সবার প্রত্যাশা—তদন্ত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সত্য উদঘাটিত হবে এবং জানা যাবে আসলেই এই ঘটনার পেছনে কারা কলকাঠি নেড়েছিল।


মোহাম্মদ শেখ কামালউদ্দিন স্মরণ

লেখক ও কলামিস্ট। 

সম্পাদকীয় বিভাগের অন্যান্য খবর



 Amadersomaj News
Follow Us

শহীদ সোহরাওয়ার্দী এভিনিউ, ব্লক কে, বারিধারা কূটনৈতিক অঞ্চল, ঢাকা-1212

সম্পাদক
তৌহিদুল ইসলাম মিন্টু

নির্বাহী সম্পাদক
মতিউর রহমান


প্রকাশক
আমাদের সমাজ মিডিয়া লিমিটেড
আমাদের সমাজ মিডিয়া লিঃ এর একটি প্রতিষ্ঠান।

নিউজ
ফোনঃ +1 916-934-7384
Email: amadersomajonline@gmail.com

বিজ্ঞাপণ
ফোনঃ +1 916-934-7384
Email: amadersomajonline@gmail.com

DMCA.com Protection Status

©২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত |amadersomaj.com