ঢাকা, ১১ মে, ২০২৬
মোহাম্মদ শেখ কামালউদ্দিন স্মরণ :
প্রকাশিত : ০১:২১ পিএম, ০৭ ডিসেম্বর ২০২৫
Digital Solutions Ltd

স্বচ্ছতা কোথায় হারিয়ে গেল?



প্রকাশিত : ০১:২১ পিএম, ০৭ ডিসেম্বর ২০২৫

স্বচ্ছতা কোথায় হারিয়ে গেল?



মোহাম্মদ শেখ কামালউদ্দিন স্মরণ :

বাংলাদেশের রাজনীতিতে যে সংকট বহুদিন ধরে জমে ছিল, তা এখন আরও ঘন কালো মেঘে পরিণত হয়েছে। দেশের অন্যতম আলোচিত রাজনৈতিক নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে যে অস্বচ্ছতা তৈরি হয়েছে, তা কেবল একজন নেত্রীর চিকিৎসার প্রশ্ন নয়—এটি এখন রাষ্ট্রীয় আস্থার প্রশ্ন, রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতার প্রশ্ন, এবং সবচেয়ে বড়—জনগণের অধিকার রক্ষার প্রশ্ন।

 

সরকার বা রাজনৈতিক শীর্ষ নেতৃত্ব কেউই এখনো পূর্ণাঙ্গ, সুনির্দিষ্ট তথ্য দিচ্ছে না—এটিই গুজবের প্রকৃত জন্মদাতা।

 

তথ্য গোপন রাখার এই প্রবণতা গণতন্ত্রের ব্যাঘাত

 

রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সাংবাদিক, সাধারণ মানুষ—সবার একটাই প্রশ্ন:

একজন জাতীয় নেত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ে এত তথ্য-নিরোধ কেন?

 

সাংবাদিকদের প্রবেশে কঠোর বাধা, চিকিৎসা আপডেট না দেওয়া, রাজনৈতিক নেতাদের সীমিত অ্যাকসেস, ভিআইপি নিরাপত্তার অস্বাভাবিকতা—এসব কি সত্যিই চিকিৎসা–নিরাপত্তা, নাকি রাজনৈতিক বাস্তবতার পূর্বাভাস?

 

গণতান্ত্রিক সমাজে তথ্য লুকানো সবসময়ই সন্দেহ জন্ম দেয়।

আর সন্দেহ যখন প্রতিষ্ঠিত হয়, তখন গুজবই নেতৃত্ব নেয়।

 

রাষ্ট্রীয় নীরবতা গুজবের জন্মদাত্রী

 

বর্তমান পরিস্থিতিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি দাবিই ঘুরে বেড়াচ্ছে—

প্রকৃত তথ্য গোপন করা হচ্ছে।

 

এই দাবি সত্য কি মিথ্যা—রাষ্ট্রীয় সাংবাদিকতা তা ঘোষণা করতে পারে না।

কিন্তু একটি প্রশ্ন তুলতেই পারে—

তথ্য যদি স্পষ্ট থাকত, তাহলে গুজব এত শক্তি পেত?

 

উত্তর হচ্ছে—না।

 

নির্বাচন সামনে—তাই কি এই নীরবতা?

 

নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, রাজনৈতিক হিসাব–নিকাশও তত জটিল হচ্ছে।

বিভিন্ন মহলে আলোচ্য—

 

নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই কি কোনও নাটকীয়তা তৈরি হবে?

মৃত্যুসংবাদ বা অসুস্থতার সংবাদ রাজনৈতিকভাবে ব্যবহৃত হবে কি?

নির্বাচন পিছানোর বা রাজনৈতিক চাল পাল্টানোর খেলায় কি স্বাস্থ্য–সংবাদকে ঢাল বানানো হচ্ছে?

 

এসব প্রশ্ন জনগণের।

এদের উত্তর নেই।

আর উত্তরের অভাবই আজকে সবচেয়ে বড় রাষ্ট্রীয় দুর্বলতা।

 

সাংবাদিকতার দায়িত্ব: গুজব নয়, অস্বচ্ছতাকে চিহ্নিত করা

 

একটি দায়িত্বশীল সম্পাদকীয় কখনোই অনিশ্চিত তথ্যকে সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে না।

তবে সত্য লুকানোর সংস্কৃতিকে চিহ্নিত করে—এটাই তার কাজ।

 

আজকের পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় সত্য হলো—

রাষ্ট্র, রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো জনগণকে সম্পূর্ণ তথ্য দিচ্ছে না।

 

এই অস্পষ্টতা যদি উদ্দেশ্যমূলক হয়, তবে তা গণতান্ত্রিক নীতির সাথে স্পষ্ট সংঘর্ষ সৃষ্টি করে।

 

যদি এটি নিরাপত্তাজনিত হয়, তবে কেন তা স্বীকার করা হচ্ছে না—সেটিও প্রশ্ন।

 

একটি জাতির আস্থা চুরি হয়ে যাচ্ছে

 

বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশ এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে—

 

 মানুষ সংবাদ নয়, গুজবে বিশ্বাস করছে,

তথ্য নয়, অনুমান দিয়ে বিশ্লেষণ করছে,

আস্থা নয়, সন্দেহ দিয়ে রাষ্ট্রকে মাপছে।

 

এটি একটি জাতির জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক সংকেত।

রাজনীতির অস্বচ্ছতা যত বাড়বে, রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা তত কমবে।

 

শেষ কথা: সত্যকে লুকিয়ে রাখা যায়, কিন্তু চিরদিন চাপা রাখা যায় না

 

বেগম খালেদা জিয়াকে ঘিরে রাজনৈতিক নীরবতা ও তথ্য–অবরোধ আজ নতুন এক অধ্যায় খুলেছে—

যেখানে স্বচ্ছতা অনুপস্থিত,

গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ক্ষতিগ্রস্ত,

এবং রাষ্ট্রীয় বিবৃতি জনগণের আস্থা ফিরে আনতে ব্যর্থ।

 

রাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান—

সত্যকে প্রকাশ করা হোক।

স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনা হোক।

গণতন্ত্রের প্রতি আস্থা ফিরুক।

 

কারণ একটি প্রশ্ন আজ দেশের প্রতিটি নাগরিকের মনের ভেতর—

"আমরা কি সত্য জানতে পারবো, নাকি সত্য আরেকবার রাজনীতির ভিতর চাপা পড়ে যাবে?"

 

__ মোহাম্মদ শেখ কামালউদ্দিন স্মরণ

লেখক ও কলামিস্ট।

সম্পাদকীয় বিভাগের অন্যান্য খবর



 Amadersomaj News
Follow Us

শহীদ সোহরাওয়ার্দী এভিনিউ, ব্লক কে, বারিধারা কূটনৈতিক অঞ্চল, ঢাকা-1212

সম্পাদক
তৌহিদুল ইসলাম মিন্টু

নির্বাহী সম্পাদক
মতিউর রহমান


প্রকাশক
আমাদের সমাজ মিডিয়া লিমিটেড
আমাদের সমাজ মিডিয়া লিঃ এর একটি প্রতিষ্ঠান।

নিউজ
ফোনঃ +1 916-934-7384
Email: amadersomajonline@gmail.com

বিজ্ঞাপণ
ফোনঃ +1 916-934-7384
Email: amadersomajonline@gmail.com

DMCA.com Protection Status

©২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত |amadersomaj.com