জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান ও তার সহকর্মীদের সাথে লেখক ও কলামিস্ট, মোহাম্মদ শেখ কামালউদ্দিন স্মরণ
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী শুধুমাত্র একটি সামরিক বাহিনী নয়—এটি আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার প্রতীক, আস্থার শেষ আশ্রয়। ইতিহাসে যখনই দেশের সংকট ঘনিয়ে এসেছে, তখনই এই বাহিনী এগিয়ে এসেছে দেশ ও জনগণের পাশে দাঁড়াতে। বর্তমান সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান সেই ঐতিহ্যের যোগ্য উত্তরাধিকার।
আমি ব্যক্তিগতভাবে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানকে কাছ থেকে দেখেছি, কথা বলেছি। যেমনটি এক সময় দেখেছিলাম একজন সফল সেনাপ্রধান, সফল রাষ্ট্রনায়ক এবং জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে। তাদের মধ্যে যে মিলটি সবচেয়ে চোখে পড়ে, তা হলো—শৃঙ্খলা, ভদ্রতা এবং দেশপ্রেমের গভীর অঙ্গীকার।
কিছুদিন আগেই জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান স্পষ্ট ভাষায় বলেছিলেন, "যতক্ষণ শরীরে রক্ত আছে, ততক্ষণ এদেশ রক্ষা করতে যা যা করা লাগে, করব।" এই বক্তব্য শুধু মুখের বুলি ছিল না—তার বাস্তব প্রতিফলন আমরা দেখতে পেয়েছি দেশের বিভিন্ন ক্রান্তিলগ্নে। দেশের যখন গণতান্ত্রিক অনিশ্চয়তা, প্রশাসনিক নিস্তেজতা, এবং রাজনৈতিক বিভ্রান্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে, তখন সেনাবাহিনীই ছিল মানুষের একমাত্র আস্থা ও নির্ভরতার প্রতীক।
কিন্তু সম্প্রতি ঈদের দিনে সেনাপ্রধানের সাথে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সাক্ষাৎ নিয়ে জনমনে নানা জল্পনা-কল্পনা তৈরি হয়েছে। কিছু মানুষ প্রশ্ন তুলছে—একজন হুঁশিয়ার সেনাপ্রধান কিভাবে এমন একজন বিতর্কিত অর্থনীতিবিদের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে পারেন?
আমরা ভুলে গেলে চলবে না—সেনাপ্রধান একটি সাংবিধানিক পদের অধিকারী। তিনি সরকারের অধীন একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। প্রধান উপদেষ্টা যদি-না-বা জনপ্রিয় হন, তবুও তিনি বর্তমানে সরকারের সর্বোচ্চ নির্বাহী পদে অধিষ্ঠিত। সেনাপ্রধান যদি তাঁকে ঈদের শুভেচ্ছা জানান, সেটা কূটনৈতিক সৌজন্যের অংশ—এটাকে আঁতাত বলে ট্যাগ করা রাজনৈতিক অপরিণামদর্শিতা ছাড়া কিছু নয়।
তবে এটাও সত্য, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অতীত ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ। গ্রামীণ ব্যাংকের সাফল্য নিয়ে যেমন তিনি বিশ্বমঞ্চে প্রশংসিত, তেমনি তার বিরুদ্ধে রয়েছে সুশাসন, কর ফাঁকি, এবং জাতীয় নিরাপত্তা হুমকিসৃষ্টিকারী বিদেশি যোগাযোগের অভিযোগ। এমন একজন ব্যক্তিকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শীর্ষে বসানো আদৌ দেশ ও গণতন্ত্রের জন্য কতটা নিরাপদ—সেটা ভেবে দেখা উচিত।
আমার দৃঢ় বিশ্বাস, জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়, বাস্তবতা বুঝে চলেন। তিনি জানেন কখন কার সাথে কতটা দূরত্ব বজায় রাখা দরকার। ইতিহাস, অভিজ্ঞতা ও দেশপ্রেম তাঁকে বাংলাদেশের ভবিষ্যত রক্ষা করার জন্য যথাযথ অবস্থানে রেখেছে।
আজ আমরা এক অনিশ্চিত সময় পার করছি। রাজনীতি থেকে সেনা-প্রশাসন—সবকিছু প্রশ্নবিদ্ধ, পক্ষপাতদুষ্ট ও অনাস্থার কেন্দ্রে। এই সময়ে সেনাবাহিনী এবং এর নেতৃত্ব যদি নিরপেক্ষ থাকে, রাষ্ট্রযন্ত্রের ভারসাম্য রক্ষা হয়। আর যদি এ ভারসাম্য নষ্ট হয়—তাহলে সেটি কেবল একটি দলের সমস্যা নয়, গোটা জাতির জন্য অশনিসংকেত।
তাই আমাদের আকাঙ্ক্ষা—জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান তার অতীতের মতোই ভবিষ্যতেও দেশের পক্ষে, জনগণের পক্ষে এবং নিরপেক্ষতার আদর্শে অবিচল থাকবেন। ইতিহাস তাঁকে নিরপেক্ষ ও সাহসী সৈনিক হিসেবেই মনে রাখুক।
মোহাম্মদ শেখ কামালউদ্দিন স্মরণ
রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং লেখক ও কলামিস্ট।
শহীদ সোহরাওয়ার্দী এভিনিউ, ব্লক কে, বারিধারা কূটনৈতিক অঞ্চল, ঢাকা-1212
সম্পাদক
তৌহিদুল ইসলাম মিন্টু
নির্বাহী সম্পাদক
মতিউর রহমান
প্রকাশক
আমাদের সমাজ মিডিয়া লিমিটেড
আমাদের সমাজ মিডিয়া লিঃ এর একটি প্রতিষ্ঠান।
নিউজ
ফোনঃ +1 916-934-7384
Email: amadersomajonline@gmail.com
বিজ্ঞাপণ
ফোনঃ +1 916-934-7384
Email: amadersomajonline@gmail.com
©২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত |amadersomaj.com