মোহাম্মদ শেখ কামালউদ্দিন স্মরণ। লেখক ও কলামিস্ট।
"এনসিপি সন্ত্রাস ও মব জাস্টিসে ড. ইউনুসের নীরব সমর্থন: রাষ্ট্র কি জিম্মি?"
বাংলাদেশ আজ এক গভীর রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতার মুখে দাঁড়িয়ে। দেশের মানুষ ন্যায়বিচারের স্বপ্ন দেখেছিল—স্বাধীন ও কার্যকর একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার থেকে, যেখানে প্রতিটি নাগরিক নিজেকে নিরাপদ ভাববে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, বর্তমান সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুস দৃশ্যত কিছু ছাত্রনেতা নামধারী সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন, কিংবা নিজের ক্ষমতা ও বিদেশি স্বীকৃতির লোভে সচেতনভাবে একটি উগ্র ও সাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক গোষ্ঠীর স্বার্থরক্ষা করছেন।
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নামক একটি তথাকথিত নতুন রাজনৈতিক শক্তি—আসলে যাদের মূল শিকড় যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত গোষ্ঠীর চিন্তাধারায় প্রোথিত—তাদের দমন না করে বরং রাষ্ট্রক্ষমতার ছায়ায় মাথা তুলে দাঁড়াতে দিচ্ছেন এই সরকারের নীতিনির্ধারকেরা। দেশের নানা স্থানে মব জাস্টিসের নামে মানুষকে পিটিয়ে হত্যা করা হচ্ছে, জানমাল লুট হচ্ছে, নারীদের ওপর নির্যাতন বাড়ছে—কিন্তু সরকারপ্রধান ড. ইউনুস এ নিয়ে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। তাঁর প্রশাসনিক ব্যর্থতা আজ জনজীবনকে বিপন্ন করে তুলেছে।
একটি গভীর প্রশ্নের মুখোমুখি আমরা দাঁড়িয়েছি—ড. ইউনুস কি সত্যিই স্বাধীনতার চেতনায় বিশ্বাসী?
এমন একজন ব্যক্তি, যিনি জীবনে কখনো শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাননি, যিনি মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কোনো আবেগ বা সম্মান প্রকাশ করেননি, তিনি কীভাবে একটি রাষ্ট্রের অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান হয়ে মুক্তিযুদ্ধের অর্জন রক্ষা করবেন?
এই প্রশ্ন আরও প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে যখন আমরা দেখি—চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী, ১৯৭১ সালে আলবদর বাহিনীর নেতা এ টি এম আজহার-কে আপিল বিভাগে সম্পূর্ণ নির্দোষ ঘোষণা দিয়ে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। এই রায় দেশের গণমানুষের অনুভূতিতে এক গভীর আঘাত। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল যেখানে তার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল, সেখানে এই খালাস ন্যায়বিচার নয়, বরং একটি পরিকল্পিত রাজনৈতিক সমঝোতার ফসল। সরকারপক্ষের আইন উপদেষ্টা পর্যন্ত এই রায়কে ‘ন্যায়বিচার’ বলে আখ্যা দিয়েছেন—যা প্রকৃতপক্ষে বিচার ব্যবস্থার ওপর রাজনৈতিক প্রভাবের নগ্ন স্বীকৃতি।
এটি শুধু আজহারের বিচার নয়, এটি পুরো মুক্তিযুদ্ধ ও তার চেতনার বিরুদ্ধে এক প্রতীকী আঘাত।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান যে গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচারের আকাঙ্ক্ষা তৈরি করেছিল, এই অন্তর্বর্তী সরকার সেই আকাঙ্ক্ষাকে পিষে দিচ্ছে একটি যুদ্ধাপরাধী বান্ধব শাসন কাঠামো তৈরি করে। আজহারদের খালাস দেওয়ার মধ্য দিয়ে তারা জাতিকে সেই পুরনো বিভাজনের দিকে ঠেলে দিচ্ছে, যেখানে খুনিরা সাদা পোষাকে আর শহীদ পরিবারেরা বিচারহীনতার যন্ত্রণা নিয়ে বেঁচে থাকে।
ড. মুহাম্মদ ইউনুস যদি এই জাতির প্রতি সত্যিকারের দায়িত্ববান হন, তবে তাকে সন্ত্রাসবাদী দল এনসিপির সঙ্গে তার সম্পর্কের ব্যাখ্যা দিতে হবে। তাকে জবাব দিতে হবে, কেন এখনো সেনাবাহিনীর ছায়া না থাকলে দেশের মানুষ রাস্তায় মরে পড়ে থাকে, আর রাষ্ট্র নির্বিকার থাকে? আর যদি তিনি এই প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে না পারেন, তবে তার নৈতিক অধিকার নেই একটি স্বাধীন জাতির অন্তর্বর্তী সরকার চালানোর।
আমরা চাই একটি সন্ত্রাসমুক্ত, পক্ষপাতহীন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ সরকার—যারা সত্যিকার অর্থে দেশের উন্নয়ন, গণতন্ত্র এবং জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করবে।
না হলে এই অবস্থা চলতে থাকলে বাংলাদেশ শুধু উন্নয়ন হারাবে না, হারাবে ইতিহাস, পরিচয় এবং ভবিষ্যৎ। বাংলাদেশ আজ গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার এবং মানবিক নিরাপত্তার এক ভয়াবহ সংকটে। এই পরিস্থিতিতে দেশের মানুষ আর চুপ থাকতে পারে না। জনগণকে জাগতে হবে, সন্ত্রাস ও বিশ্বাসঘাতকতার বিরুদ্ধে।
মোহাম্মদ শেখ কামালউদ্দিন স্মরণ
লেখক ও কলামিস্ট।
শহীদ সোহরাওয়ার্দী এভিনিউ, ব্লক কে, বারিধারা কূটনৈতিক অঞ্চল, ঢাকা-1212
সম্পাদক
তৌহিদুল ইসলাম মিন্টু
নির্বাহী সম্পাদক
মতিউর রহমান
প্রকাশক
আমাদের সমাজ মিডিয়া লিমিটেড
আমাদের সমাজ মিডিয়া লিঃ এর একটি প্রতিষ্ঠান।
নিউজ
ফোনঃ +1 916-934-7384
Email: amadersomajonline@gmail.com
বিজ্ঞাপণ
ফোনঃ +1 916-934-7384
Email: amadersomajonline@gmail.com
©২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত |amadersomaj.com