মোহাম্মদ শেখ কামালউদ্দিন স্মরণ। লেখক ও কলামিস্ট।
জাতীয় নিরাপত্তা, সেনাবাহিনীর নিরপেক্ষতা এবং এনসিপি নামক নতুন সন্ত্রাসের উত্থান
বাংলাদেশের ইতিহাসে জাতীয় নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হচ্ছে আমাদের সেনাবাহিনী। পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা এবং জনআস্থার প্রতীক হিসেবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বরাবরই নিরপেক্ষভাবে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এসেছে। ৫ই আগস্ট ২০২৪ তারিখে এ বাহিনী এক কঠিন পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে যেভাবে জনস্বার্থে শান্তিপূর্ণ হস্তক্ষেপ করেছে—তা ইতিহাসে একটি দায়িত্বশীল রাষ্ট্রীয় শক্তির গর্বিত উদাহরণ হয়ে থাকবে।
এই প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত উদ্বেগজনকভাবে আবির্ভূত হয়েছে তথাকথিত “জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)” ও “বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন” নামধারী কিছু সংগঠন। সাম্প্রতিক সময়ের ঘটনাবলীতে দেখা গেছে, এই সংগঠনের কয়েকজন নেতা—বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক এবং সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সারজিস আলম—সেনাবাহিনীকে “ফ্যাসিবাদ বিরোধী কার্যক্রমে অবস্থান স্পষ্ট করতে” আহ্বান জানিয়েছেন, যা সরাসরি বাহিনীর নিরপেক্ষতা, সংবিধান অনুযায়ী ভূমিকা এবং জনসমর্থনের প্রতি কটাক্ষের শামিল।
প্রশ্ন হচ্ছে—কে এই সারজিস আলম? ছাত্রলীগের হয়ে এক সময় মব জাস্টিস, দমন-পীড়ন ও রাজনৈতিক সন্ত্রাসে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে যার বিরুদ্ধে, সেই ব্যক্তিই আজ মানবাধিকার ও গণতন্ত্রের মুখোশ পরে সেনাবাহিনীর রাজনৈতিক অবস্থান নির্ধারণের দাবিতে সোচ্চার! এই অবস্থান এক ধরনের রাষ্ট্রদ্রোহিতারই ছায়া বহন করে। সেনাবাহিনী অতীতেও যেমন, এখনও জনতার পক্ষেই আছে—তাদের পেশাদার অবস্থান স্পষ্ট এবং প্রশ্নাতীত। তার প্রমাণ ৫ই আগস্ট।
এনসিপি আজ এক অশৃঙ্খল সন্ত্রাসী প্ল্যাটফর্মে রূপ নিয়েছে। তাদের কার্যক্রম, বক্তব্য এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত বিভিন্ন উস্কানিমূলক বার্তা রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা ও শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশকে মারাত্মকভাবে বিপন্ন করছে। এই সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত কিছু ব্যক্তি অতীতে আওয়ামী লীগের মিত্র হিসেবে ক্ষমতার সুবিধা ভোগ করেছেন। যখন তারা বুঝতে পেরেছেন যে আওয়ামী লীগ আর ক্ষমতায় থাকতে পারবে না, তখনই তারা নতুন মুখোশ পরে 'বৈষম্য বিরোধী' তকমা লাগিয়ে নতুন রাজত্ব কায়েমের চেষ্টা করছেন।
এরা কোনো আদর্শগত বিরোধিতার ধারক নন। এরা সুযোগসন্ধানী রাজনৈতিক ব্যবসায়ী, যারা সুবিধাবাদী রাজনীতির অংশ হয়ে একদিকে রাষ্ট্রযন্ত্রকে চ্যালেঞ্জ করছেন, অন্যদিকে জনগণের অনুভূতিকে জিম্মি করে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে চাইছেন।
অন্যদিকে, জাতীয় পার্টি—হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ-এর হাতে গড়া একটি সুশৃঙ্খল, সুসংগঠিত ও দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক দল—সব সময়ই গণতান্ত্রিক শিষ্টাচার ও সাংবিধানিক সীমার মধ্যে থেকে রাজনীতি করেছে। জাতীয় পার্টির সঙ্গে সেনাবাহিনীর ঐতিহাসিক সম্পর্ক, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও জাতীয় স্বার্থে কাজ করার ঐতিহ্য আজও স্মরণীয়। রাজনৈতিক সহনশীলতার এই উদাহরণ, এনসিপি’র মতো উগ্র গোষ্ঠীগুলোর বিপরীতে এক গৌরবময় বিকল্প।
এখন সময় এসেছে রাষ্ট্রকে এই সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে। এনসিপি ও তথাকথিত বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে যারা রাষ্ট্রবিরোধী উস্কানি, সেনাবাহিনীকে প্রশ্নবিদ্ধ করা এবং জনজীবনে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ প্রয়োজন। রাষ্ট্রদ্রোহ, সন্ত্রাস ছড়ানো এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর সরাসরি আক্রমণের দায়ে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে বিচার নিশ্চিত করতে হবে। না হলে, এদের প্রশ্রয়দাতা হিসেবে ড. মুহাম্মদ ইউনুসের ভূমিকা ভবিষ্যতে বিশ্বপরিসরে প্রশ্নবিদ্ধ হবে।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এই দেশের গর্ব। জাতীয় পার্টি এই দেশের একটি দায়িত্বশীল, শৃঙ্খলাপূর্ণ রাজনৈতিক শক্তি। এনসিপি ও তাদের সদ্য রূপান্তরিত সুবিধাবাদী নেতাদের মুখোশ এখনই উন্মোচন করতে হবে—জনগণের নিরাপত্তা ও গণতন্ত্র রক্ষায় দেরি মানে চরম মূল্য।
_ মোহাম্মদ শেখ কামালউদ্দিন স্মরণ
লেখক ও কলামিস্ট।
শহীদ সোহরাওয়ার্দী এভিনিউ, ব্লক কে, বারিধারা কূটনৈতিক অঞ্চল, ঢাকা-1212
সম্পাদক
তৌহিদুল ইসলাম মিন্টু
নির্বাহী সম্পাদক
মতিউর রহমান
প্রকাশক
আমাদের সমাজ মিডিয়া লিমিটেড
আমাদের সমাজ মিডিয়া লিঃ এর একটি প্রতিষ্ঠান।
নিউজ
ফোনঃ +1 916-934-7384
Email: amadersomajonline@gmail.com
বিজ্ঞাপণ
ফোনঃ +1 916-934-7384
Email: amadersomajonline@gmail.com
©২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত |amadersomaj.com