শেখ মুজিবসহ চার নেতার ছবি।
মুক্তিযুদ্ধকে মুছে ফেলার রিসেট বাটন নয়, জেগে উঠো বাংলাদেশ
_মোহাম্মদ শেখ কামালউদ্দিন স্মরণ
৩ জুন ২০২৫—এই তারিখটি স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে আরেকটি দুঃখজনক অধ্যায়ের সূচনা করলো। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জারি হওয়া এক অধ্যাদেশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদসহ ১৯৭০ সালের নির্বাচনে বিজয়ী শত শত রাজনীতিবিদকে "বীর মুক্তিযোদ্ধা" নয়, কেবল "মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী" হিসেবে চিহ্নিত করা হলো।
যে মানুষটি স্বাধীনতার ডাক দিয়েছেন, যাঁর নির্দেশে একটি জাতি অস্ত্র ধরেছে, তাঁরই মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় কেড়ে নেওয়া হচ্ছে প্রশাসনিক কলমের খোঁচায়? এটি শুধু একটি স্বীকৃতি বাতিল নয়, বাংলাদেশের আত্মপরিচয়কে অপমান করার নামান্তর।
জাতির পিতাকেও ‘সহযোগী’ বলবে?
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নেতৃত্বে ১৯৭০ সালের নির্বাচনে গণরায় এসেছিল, যার ভিত্তিতে বাংলাদেশ স্বাধীনতার দিশা পেয়েছিল। মুজিবনগর সরকার গঠন, রাষ্ট্রের কার্যক্রম চালানো, বিশ্বমঞ্চে মুক্তিযুদ্ধকে কূটনৈতিক ভিত্তি দেওয়া, অর্থ ও অস্ত্র সংগ্রহ—এসব সবই হয়েছিল এই নেতাদের সরাসরি নেতৃত্বে। তাহলে এখন এদেরকে ‘সহযোগী’ বলার মানে কী?
এটি একটি ইতিহাস বিকৃতির সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ।
এই সিদ্ধান্ত কি কাকতালীয়? নাকি রিসেট বাটনের ফল?
এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এলো, যখন তথাকথিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বা ‘রিসেট বাংলাদেশ’-এর নেপথ্য আলোচনায় সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত নাম ড. মুহাম্মদ ইউনূস। আন্তর্জাতিক পৃষ্ঠপোষকতায় একটি নতুন ধরনের ‘গণতন্ত্রবিহীন গণমঞ্চ’ তৈরির প্রচেষ্টা চলছে, যেখানে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, ৩০ লক্ষ শহীদের আত্মত্যাগ, বীরাঙ্গনাদের সম্মান—সবকিছুকে মুছে ফেলে একটি পশ্চিমা-কাঠামোর "নতুন বাংলাদেশ" গড়ার প্রয়াস চলছে।
এই অধ্যাদেশ সেই একই প্রকল্পের অংশ কি না, তা জনগণ গভীরভাবে বুঝতে পারছে।
একটি জাতির আত্মাকে আঘাত করা হলো
এই দেশে কত শিশু জন্মেছে মুক্তিযোদ্ধা পিতার গল্প শুনে। কত তরুণ এখনো শপথ নেয় স্বাধীনতার চেতনায় নিজেকে উৎসর্গ করতে। সেই জাতিকে আজ বলা হচ্ছে—তোমার রাষ্ট্রনেতা, তোমার প্রধানমন্ত্রী, তোমার কূটনীতিক, তোমার স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র—তারা মুক্তিযোদ্ধা নয়, কেবল সহযোগী!
একদিকে রাজাকারদের বিচার আটকে থাকে, অপরদিকে মুক্তিযুদ্ধের রূপকারদের মর্যাদা কেড়ে নেওয়া হয়।
এ কেমন রাষ্ট্রনীতি?
এ কেমন নৈতিকতা?
একটি প্রতিরোধ জরুরি হয়ে উঠেছে
এই সিদ্ধান্ত বাতিল না হলে, ইতিহাসের পাতায় আবার লেখা হবে—
"বাঙালিরা তাদের নিজের জাতির জনকের মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় মুছে দিয়েছিল, বিদেশি নকশায় চলা এক সরকারকে খুশি করার জন্য।"
আজ প্রতিটি নাগরিক, প্রতিটি সাংবাদিক, প্রতিটি তরুণের উচিত এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো। কারণ যদি ইতিহাস মুছে ফেলা হয়, তাহলে ভবিষ্যৎ কোনোদিন স্বাধীনভাবে লেখা যাবে না।
উপসংহার: ইতিহাসের অপমান মানে জাতির আত্মহত্যা
এই কলম থেকে একটি প্রশ্ন ছুড়ে দিতে চাই:
রাজাকার কি এখন রাষ্ট্রীয়ভাবে শ্রদ্ধেয় হবে, আর বঙ্গবন্ধু, তাজউদ্দীন, নজরুল ইসলামরা হবেন ‘সহযোগী’ নামের এক উপসর্গহীন স্মৃতি?
না, বাংলাদেশ তা হতে দেবে না।
যারা রিসেট বাটনে চাপ দিচ্ছে, তারা শুনে রাখুক—
এই জাতি রক্তে কেনা ইতিহাস মুছে ফেলতে দেবে না।
জেগে উঠো বাংলাদেশ,
আরেকটি সংগ্রামের আহ্বান জানায় ইতিহাস নিজেই।
মোহাম্মদ শেখ কামালউদ্দিন স্মরণ
লেখক ও কলামিস্ট।
শহীদ সোহরাওয়ার্দী এভিনিউ, ব্লক কে, বারিধারা কূটনৈতিক অঞ্চল, ঢাকা-1212
সম্পাদক
তৌহিদুল ইসলাম মিন্টু
নির্বাহী সম্পাদক
মতিউর রহমান
প্রকাশক
আমাদের সমাজ মিডিয়া লিমিটেড
আমাদের সমাজ মিডিয়া লিঃ এর একটি প্রতিষ্ঠান।
নিউজ
ফোনঃ +1 916-934-7384
Email: amadersomajonline@gmail.com
বিজ্ঞাপণ
ফোনঃ +1 916-934-7384
Email: amadersomajonline@gmail.com
©২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত |amadersomaj.com